রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
সর্বশেষ হালনাগাদ: সকাল ৯:৪০
প্রচ্ছদ › লাইফস্টাইল › খবর
লাইফস্টাইল

এক পোশাকেই সকাল থেকে সন্ধ্যা: পূজার ফিউশন সাজের সহজ কৌশল

নিজস্ব প্রতিবেদক • রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ • দুপুর ১:১৫ • পড়ার সময়: ৫ মিনিট

পূজার দিনটা প্রায়ই এক রকম থাকে না। সকালে পরিবারের সঙ্গে উৎসব, দুপুরে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, আবার সন্ধ্যায় দাওয়াত কিংবা পার্টি — এক দিনেই থাকতে পারে নানা আয়োজন। প্রতিটি আয়োজনের জন্য আলাদা পোশাক সঙ্গে রাখা বা বারবার বদলানো সব সময় সম্ভবও হয় না। অথচ কয়েকটি সহজ কৌশল জানা থাকলে একই পোশাকেই দিনের সাধারণ সাজকে সন্ধ্যার জমকালো রূপ দেওয়া যায়, নতুন কিছু না কিনেই।

এর মূল চাবিকাঠি পোশাক নয়, অনুষঙ্গ। মানানসই গয়না, জুতা, মেকআপ, চুলের সাজ এবং ওড়না বা শাড়ির আঁচল পরার ধরনে সামান্য বদল — এই কয়েকটি জায়গায় পরিবর্তন আনলেই পুরো লুক বদলে যায়। পুরোনো পোশাকের নতুন ব্যবহারের এই ধারণাটাই ফিউশন সাজের প্রাণ।

সকাল থেকে সন্ধ্যা একই পোশাক পরতে চাইলে শুরুতেই এমন কিছু বেছে নেওয়া ভালো, যা সব আয়োজনে মানায়। হালকা কারুকাজ করা সিল্ক-ব্লেন্ড কুর্তা সেট, সূক্ষ্ম নকশার শাড়ি কিংবা আনারকলি হতে পারে ভালো পছন্দ। দিনের বেলায় সাজে সংযত ভাব রাখা যাবে, সন্ধ্যায় গয়না ও অনুষঙ্গ যোগ করে একই পোশাককে আরও জমকালো করে তোলা যাবে।

সাজের শুরুতে সব গয়না ও অনুষঙ্গ একসঙ্গে ব্যবহার করার দরকার নেই। বরং একটি বিষয়কে প্রাধান্য দিন — তা হতে পারে নকশা করা ওড়না, সিকুইন বসানো ব্লাউজ, কারুকাজ করা পাড় কিংবা নজরকাড়া কানের দুল। দিনের বেলা বাকি সাজ সাধারণ রাখুন, সন্ধ্যায় প্রয়োজন অনুযায়ী আরও অনুষঙ্গ যোগ করুন। এতে ভারসাম্য থাকবে, একই পোশাকও নতুন মনে হবে। পুরোনো শাড়ি দিয়ে নতুন নকশার স্কার্ট বানিয়ে জুতা ও গয়না বদলেও দারুণ ফিউশন তৈরি হতে পারে।

আরামের প্রশ্নটাও সমান জরুরি। পূজার দিনে অনেকটা সময় হাঁটাহাঁটি, যাতায়াত, বসে থাকা কিংবা দাঁড়িয়ে কাটাতে হয়। তাই পোশাক দেখতে সুন্দর হওয়ার পাশাপাশি আরামদায়ক হওয়া চাই। বাতাস চলাচল করতে পারে এমন কাপড়ের কুর্তা সেট কিংবা সহজে পরা যায় এমন শাড়ি বেছে নিলে দিনভর স্বস্তি মিলবে।

শুরুতেই অতিরিক্ত ভারী পোশাক পরে ফেললে সন্ধ্যায় নতুনত্ব আনার সুযোগ কমে যায়। দিনের সাজে কিছুটা সংযম রাখলে পরে গয়না, জুতা কিংবা ওড়নার ধরন বদলে সহজেই নতুন লুক তৈরি করা যায় — এটাই সারা দিনের সাজ পরিকল্পনার সবচেয়ে কার্যকর নিয়ম।

সাজ বদলানোর সবচেয়ে সহজ উপায় গয়না। সোনালি রঙের গয়না, ঝুমকা, চাঁদবালি কিংবা নজরকাড়া নেকলেস সাধারণ পোশাকেও উৎসবের আমেজ বাড়িয়ে দেয়। দিনের বেলায় হালকা গয়না পরুন যাতে সাজ পরিপাটি ও স্বাভাবিক দেখায়; সন্ধ্যায় একই পোশাকের সঙ্গে একটু বড় বা জমকালো গয়না যোগ করলেই লুকে আসবে স্পষ্ট পরিবর্তন।

দিনে ছোট স্টাড বা সাধারণ কানের দুলে থাকে পরিমিত ভাব। সন্ধ্যায় সেগুলো বদলে বড় ঝুমকা কিংবা কারুকাজ করা দুল পরা যায়, এমনকি সোনালি প্রলেপ দেওয়া ঝুমকাও সাধারণ কুর্তা বা শাড়ির সাজকে আকর্ষণীয় করে তোলে। তবে নেকলেস, দুল ও চুড়ি — সব একসঙ্গে পরতেই হবে এমন নয়; কখনো একটি নজরকাড়া ব্রেসলেট বা বড় নকশার আংটিই যথেষ্ট। বিশেষ করে পোশাকের গলার কাছে আগে থেকেই ভারী কাজ থাকলে হাতে গয়না পরা ভালো বিকল্প, যাতে ওপরের অংশ অতিরিক্ত ভারী না দেখায়।

জুতার ভূমিকাও বড়। দিনের বেলায় মণ্ডপ ঘোরা কিংবা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার জন্য আরামদায়ক ফ্ল্যাট, জুতি বা কম উচ্চতার হিল সুবিধাজনক। সোনালি, বেইজ কিংবা ধাতব রঙের জুতা নানা রঙের পোশাকের সঙ্গে সহজে মানিয়ে যায়। সন্ধ্যায় নৈশভোজ বা পার্টির জন্য স্ট্র্যাপযুক্ত হিল, কারুকাজ করা স্যান্ডেল কিংবা ধাতব রঙের হিলে আসে আনুষ্ঠানিক ও জমকালো ভাব। তবে শুধু দেখতে সুন্দর বলে অস্বস্তিকর জুতা বেছে নেওয়া ঠিক নয়; দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হলে মোটা ও স্থিতিশীল হিল তুলনামূলক আরামদায়ক।

নতুন কিছু না কিনেও বদল আনা যায় ওড়না বা আঁচল পরার ধরনে। সকাল বা দুপুরে ওড়না এক কাঁধে কিংবা সামনের দিকে স্বাভাবিকভাবে রাখলে চলাফেরা সহজ হয়, নকশাও স্পষ্ট দেখা যায়। সন্ধ্যার জন্য ওড়না এক কাঁধে সুন্দর করে আটকে নেওয়া যায় কিংবা নকশা করা প্রান্ত সামনের দিকে ঝুলিয়ে রাখা যায়। শাড়ির ক্ষেত্রে কুঁচি ঠিক করে, আঁচলের অবস্থান বদলে কিংবা কোমরে বেল্ট ব্যবহার করেও নতুনত্ব আনা সম্ভব।

মেকআপেও পুরোটা নতুন করে করার দরকার নেই। দিনে হালকা মেকআপ রাখাই ভালো; সন্ধ্যায় চোখের সাজ কিছুটা গাঢ় করা কিংবা ঠোঁটে গাঢ় রঙের লিপস্টিক ব্যবহার করলেই লুকে পরিবর্তন আসে। চুলের সাজ ও ব্যাগও বদলে নেওয়া যায়, তবে সবকিছু একসঙ্গে না বদলে দু-তিনটি বিষয় বেছে নিলে ভারসাম্য বজায় থাকে।

সব মিলিয়ে সূত্রটি সহজ: দিনে হালকা গয়না, আরামদায়ক জুতা ও স্বাভাবিক মেকআপ; সন্ধ্যায় দুল বদল, একটি আকর্ষণীয় ব্রেসলেট বা আংটি, জুতা বদল, ওড়না বা আঁচলের নতুন ধরন আর গাঢ় লিপস্টিক। এভাবে আলাদা পোশাক ছাড়াই একই সাজ দিনের সাধারণ লুক থেকে সন্ধ্যার উৎসবমুখর রূপ পায় — সময় ও ঝামেলা কমে, পুরোনো পোশাকেরও হয় নতুন ব্যবহার।

লাইফস্টাইল বিভাগের আরও খবর

লাইফস্টাইলসকাল ৬:৪০ • ১ মিনিটে পড়ুন

দীর্ঘ জীবনের রহস্য বোনত্বে? বিশ্বের ষষ্ঠ ‘ব্লু জোন’ হওয়ার পথে সার্ডিনিয়ার বোলোতানা

দীর্ঘ জীবনের রহস্য কোথায় লুকিয়ে? ইতালির সার্ডিনিয়া দ্বীপের বোলোতানা গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দাদের কাছে উত্তরটা হতে পারে এক শব্দে — বোনত্ব, অর্থাৎ নারী…