রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
সর্বশেষ হালনাগাদ: রাত ৪:০৪
প্রচ্ছদ › প্রযুক্তি › খবর
প্রযুক্তি

‘মানবজাতির যাত্রাপথ চিরতরে বদলে যাবে’ — নোবেলজয়ী চিকিৎসক কার্ল ডাইজেরথের কথা

নিজস্ব প্রতিবেদক • রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ • রাত ২:৪০ • পড়ার সময়: ৩ মিনিট

এ বছর চিকিৎসাশাস্ত্রে নোবেল পেয়েছেন মার্কিন স্নায়ুবিজ্ঞানী ও চিকিৎসক কার্ল ডাইজেরথ। তাঁর বিশ্বাস, মস্তিষ্ককে বোঝার এই যাত্রা মানবজাতির যাত্রাপথ চিরতরে বদলে দেবে।

সব মানুষের মস্তিষ্কেরই কিছু অসাধারণ দিক থাকে। ডাইজেরথের বেলায় বেশ কয়েকবারই সেটা স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। শব্দের সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্ক। খুব দ্রুত কোনো লেখা পড়ে সেটা মনে রাখতে পারেন তিনি। মনে আছে, ক্লাস ফাইভে পড়ার সময় একটা কবিতা মুখস্থ করার জন্য তাঁদের প্রায় ৪৫ মিনিট সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই হাত তুলে তিনি বলেছিলেন, ‘হয়ে গেছে।’ সামনে গিয়ে কবিতাটি আবৃত্তি করলে শিক্ষক চমকে গিয়েছিলেন। পরীক্ষা করার জন্য শিক্ষক তাঁকে অন্য একটা কবিতা দিলেন — সেটাও তিনি প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই মুখস্থ করে ফেলেছিলেন।

তিনি বলেন, শব্দগুলোকে তিনি একটা গুচ্ছ আকারে দেখার চেষ্টা করেন। অনেকে যেমন একপলকে একটি শব্দ বা বাক্য পড়ে ফেলতে পারেন, তিনি একপলকেই একগুচ্ছ বড় লেখা পড়ে ফেলতে পারেন। অনুভূতি হলো স্মৃতির একটা অংশ, আর স্মৃতি হলো অনুভূতির অংশ। কোনো কিছু যদি মনে কোনো অনুভূতি সৃষ্টি না করে, তবে তা মনে রাখার কোনো কারণ নেই। তাঁর ধারণা, এই অনুভূতিই শব্দগুলোকে মনে রাখতে সাহায্য করে।

কিন্তু যে প্রশ্নটি তাঁকে আজও চালিত করে, তা হলো: মানুষের ভেতরে অনুভূতির জন্ম কোথা থেকে হয়? মানুষ হিসেবে এটাই বোধ হয় সবচেয়ে গভীর প্রশ্নগুলোর একটি — মস্তিষ্ক বস্তুটির ভেতর কীভাবে অনুভূতি তৈরি হয়? উত্তর না পাওয়া সেই প্রশ্নটিই হয়তো আজও তাঁকে পরিচালিত করছে।

ছোটবেলা থেকেই লেখালেখি করতেন তিনি; রাইটিং ক্লাবে যোগও দিয়েছিলেন। কলেজে পড়ার সময় লেখালেখির কোর্স করেছেন। তখনো ভাবতেন, হয়তো বড় হয়ে লেখক হবেন। এমনকি গ্র্যাজুয়েট স্কুলেও পড়ালেখার পাশাপাশি স্থানীয় একটি কমিউনিটি কলেজে গিয়ে লেখালেখির ক্লাস করেছেন। লেখালেখি তাঁর পুরো জীবনের একটা অংশ।

তাঁর মনে হয়, মস্তিষ্ক বিজ্ঞান ও শিল্পের মধ্যে একটা বিশেষ যোগসূত্র তৈরি করে। একটা সুন্দর শব্দ যেমন মনে বিশেষ অনুভূতি জাগায় — এ সবই কোষের মাধ্যমে ঘটে। মস্তিষ্ক কোনোভাবে শিল্প ও শব্দকে অনুভূতিতে রূপান্তর করে। এক অর্থে, এটাই স্নায়ুবিজ্ঞানের মূল কথা। আবার এটাই শিল্পেরও মূল কথা।

সবচেয়ে পরিষ্কার ‘ইউরেকা’ মুহূর্তটি এসেছিল ২০০৭ সালে — ইঁদুরের মস্তিষ্কের যে অংশটি তার হাঁটাচলা নিয়ন্ত্রণ করে, সেই অংশ নিয়ে কাজ করার সময়। সেই গবেষণাই অপ্টোজেনেটিক্স নামের বৈপ্লবিক প্রযুক্তির ভিত্তি গেঁথে দেয়, যার মাধ্যমে আলো দিয়ে নির্দিষ্ট স্নায়ুকোষ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

সাহিত্যপ্রেমী এই বিজ্ঞানীর যাত্রা তাই শুধু গবেষণাগারের নয় — শব্দ, অনুভূতি আর মস্তিষ্কের রহস্য খোঁজার এক আজীবন অনুসন্ধান। তাঁর কথায়, এই অনুসন্ধানই একদিন মানবজাতির যাত্রাপথ চিরতরে বদলে দেবে।

প্রযুক্তি বিভাগের আরও খবর

প্রযুক্তিরাত ৭:০০ • ১ মিনিটে পড়ুন

মেটার গিটহাব রিপোজিটরিতে হ্যাকারদের অনুপ্রবেশ, ১৫০০ ব্যক্তির তথ্য ফাঁস

মেটার গিটহাবে সংরক্ষিত কয়েকটি রিপোজিটরিতে অনুপ্রবেশ করেছে হ্যাকাররা। এ ঘটনায় প্রায় ১৫০০ ব্যক্তির তথ্য ফাঁস হয়েছে বলে জানা গেছে।…

প্রযুক্তিরাত ৭:০০ • ১ মিনিটে পড়ুন

ফেসবুকে অশালীন মন্তব্যকারীদের পরিচয় প্রকাশ করছে ‘নো মোর সাইলেন্স’

ফেসবুকে অশালীন, বিদ্রূপমূলক ও অবমাননাকর মন্তব্য যাঁরা করেন, তাঁদের পরিচয় প্রকাশ করছে ‘নো মোর সাইলেন্স’ নামের একটি গ্রুপ।…