টি-টুয়েন্টিতে ছক্কার ‘ওস্তাদ’ ওয়েস্ট ইন্ডিজ, বাংলাদেশ হাজারের নিচে একমাত্র দল
টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে ছক্কার কদর সবসময়ই ছিল। এমনকি দেখেশুনে খেলার টেস্ট ক্রিকেটেও। তবে ‘ওভার বাউন্ডারি’ নামে পরিচিত ছক্কার কদরটা টি-টুয়েন্টিতে একটু বেশিই। খেলাটাই যে ছক্কার — যত মারবেন, তত এগোবেন।
টি-টুয়েন্টিতে ছক্কার প্রসঙ্গ এলে সবার আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলটার কথাই মাথায় আসে বেশির ভাগের। ক্যারিবীয় দ্বীপ থেকে উঠে আসা একেকজন ব্যাটসম্যান কী সহজেই না বাউন্ডারি পার করিয়ে ফেলতে পারেন! পরিসংখ্যানও একই সাক্ষ্য দিচ্ছে — আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে ছক্কা মারায় সবচেয়ে এগিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজই।
২০২৬ সালে নতুন কোনো সূচি যোগ না হলে এ বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের আর কোনো টি-টুয়েন্টি নেই। আর না থাকার অর্থ হচ্ছে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২০২৬ সাল শেষ করতে যাচ্ছে টি-টুয়েন্টিতে ২০২৬টি ছক্কা নিয়েই — বছর আর ছক্কার সংখ্যা মিলে যাওয়ার মজার এই সমাপতন ঘটছে ক্যারিবীয়দের ক্ষেত্রে।
ছক্কার সংখ্যায় দুইয়ে আছে ভারত — তারা মেরেছে ২০১৭টি। দুই দলের ব্যবধান মাত্র ৯ ছক্কার। তবে ভারত ম্যাচ খেলেছে বেশি — ২৯৮টি; ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচ ২৬০টি। অর্থাৎ ম্যাচপ্রতি ছক্কায় ক্যারিবীয়রা আরও এগিয়ে।
তালিকায় এরপর নিউজিল্যান্ড (১৫৮৫), পাকিস্তান (১৫০৭)। দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার ছক্কাও ১৪০০-এর আশপাশে। মানে, শীর্ষ দুই দল ছাড়া আর কোনো দলই ২০০০ ছক্কার আশপাশে নেই।
বাংলাদেশের ছক্কা ৯৮৬টি, ম্যাচ খেলেছে ২২২টি। ছক্কার হিসাবে শীর্ষ দশে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের ছক্কাই শুধু হাজারের নিচে। এমনকি আফগানিস্তানও বাংলাদেশের চেয়ে বেশি ছক্কা মেরেছে — ১০১৪টি। অথচ আফগানিস্তান প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টি খেলেছে ২০১০ সালে, বাংলাদেশ তারও অনেক আগে থেকে।
সংখ্যাগুলো বাংলাদেশের টি-টুয়েন্টি ব্যাটিংয়ের পুরোনো দুর্বলতাটাই আবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখায় — পাওয়ার হিটিংয়ে শীর্ষ দলগুলোর সঙ্গে ব্যবধানটা শুধু রানের নয়, মানসিকতারও।



