মিডটার্মের আগে জরিপে ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে, ট্রাম্পের প্রতি অসন্তোষ রেকর্ড মাত্রায়
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী (মিডটার্ম) নির্বাচনের মাত্র দুই সপ্তাহের বেশি সময় বাকি থাকতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি অসন্তোষ রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছেছে। নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, প্রতি ১০ জন আমেরিকানের প্রায় ৭ জনই মনে করেন পেট্রোলের দাম সাধ্যের বাইরে এবং দেশ ভুল পথে এগোচ্ছে।
এবিসি নিউজ/ওয়াশিংটন পোস্ট/ইপসসের এই জরিপ অনুযায়ী, কংগ্রেস নির্বাচনে সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা রিপাবলিকানদের চেয়ে ৮ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে — ৫২ শতাংশ বনাম ৪৪ শতাংশ। নিবন্ধিত ভোটারদের সামগ্রিক হিসাবেও ব্যবধান ৮ পয়েন্ট (৫০ বনাম ৪২) — জুলাইয়ের জরিপে যেখানে ব্যবধান ছিল মাত্র ৩ পয়েন্ট।
প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস) নিয়ন্ত্রণ শেষ পর্যন্ত প্রতিটি আসনের আলাদা লড়াইয়েই নির্ধারিত হবে, তবে এই ‘জেনেরিক’ প্রশ্নটিকে একটি নির্ভরযোগ্য মাপকাঠি হিসেবে দেখা হয়। উদাহরণস্বরূপ, ২০২২ সালের শরতের জরিপে দুই দল প্রায় সমানে সমান ছিল এবং শেষ পর্যন্ত রিপাবলিকানরাই কংগ্রেস জিতেছিল। ২০১৮ সালে ডেমোক্র্যাটরা ১১ পয়েন্টে এগিয়ে ছিল এবং তারাই হাউস জিতেছিল।
দলীয় ভোটাররা প্রায় সর্বসম্মতভাবে নিজ দলের প্রার্থীর পক্ষে — ডেমোক্র্যাট সম্ভাব্য ভোটারদের ৯৮ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের ৯৬ শতাংশ নিজ দলের প্রার্থীকে সমর্থন করছেন।
তবে আসল পার্থক্য গড়ে দিচ্ছেন স্বতন্ত্র ভোটাররা। স্বতন্ত্র সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে ২১ পয়েন্টে — ৫৬ শতাংশ বনাম ৩৫ শতাংশ।
ডেমোক্র্যাটরা উপকৃত হচ্ছেন নিজ সমর্থকদের বেশি উদ্দীপনা থেকেও। রিপাবলিকান ভোটারদের ৬৫ শতাংশের তুলনায় ডেমোক্র্যাট ভোটারদের ৭২ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা ভোট দিতে একদম নিশ্চিত। আর মিডটার্ম নির্বাচন ‘অত্যন্ত’ বা ‘খুব’ কাছ থেকে অনুসরণ করছেন এমন ডেমোক্র্যাট ৪৪ শতাংশ, রিপাবলিকান মাত্র ৩১ শতাংশ।
ট্রাম্পের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিই ভোটের সবচেয়ে বড় নির্ধারক। যেসব সম্ভাব্য ভোটার ট্রাম্পকে দৃঢ়ভাবে অপছন্দ করেন, তাঁদের প্রতি ১০ জনের প্রায় ৯ জনই ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে ভোট দেবেন। আবার যাঁরা ট্রাম্পকে অনুমোদন করেন, তাঁদের ১০ জনের ৯ জনের বেশি রিপাবলিকানদের ভোট দেবেন। তবে যারা ট্রাম্পকে ‘কিছুটা’ অপছন্দ করেন, সেই প্রায় ১০ শতাংশ ভোটার রিপাবলিকান প্রার্থীর পক্ষেই যাচ্ছেন দুই অঙ্কের ব্যবধানে।
অর্থনৈতিক চাপই এই অসন্তোষের মূল চালিকাশক্তি বলে জরিপে উঠে এসেছে — জরিপে মাপা প্রতিটি গৃহস্থালি ক্রয়-বিভাগকেই অর্ধেক বা তার বেশি আমেরিকান ‘সাধ্যের বাইরে’ বলেছেন।
