ঘরে তৈরি সিন্থেটিক মাদকের ঢেউয়ে আরও গভীর সংকটে যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রে ঘরে তৈরি সিন্থেটিক মাদকের এক নতুন ঢেউ দেশটির মাদক সংকটকে আরও গভীর করে তুলেছে। ফেন্টানিলের মতো পুরোপুরি কৃত্রিমভাবে তৈরি এই মাদক এখন আমেরিকার বেসমেন্ট আর বাথটাবেই তৈরি হচ্ছে।
ওহাইওর কলম্বাসের লিন্ডেন এলাকার এক গলিতে ৪৮ বছর বয়সী সাবেক সেনা সদস্য মাইক রুপার ফয়েলের ওপর কয়েক দানা ফেন্টানিল নিয়ে বসে আছেন। তাঁর ভাষায়, ‘এই মাদক তোমাকে দিয়ে প্রায় সবকিছুই করিয়ে নিতে পারে, দুর্ভাগ্যজনকভাবে।’ মাত্র তিন-চার ডলারের এই হিটই তাঁর ২০ বছরের পুরোনো ওপিওয়েড আসক্তির জ্বালানি।
ফেন্টানিল সম্পূর্ণ মানব-তৈরি, আর এটি হেরোইনের চেয়ে ৫০ থেকে ১০০ গুণ বেশি শক্তিশালী। হেরোইন তৈরি হয় পপি চাষ থেকে, কিন্তু ফেন্টানিলের জন্য কোনো চাষাবাদের দরকার নেই। এখন প্রায়ই এর সঙ্গে মেশানো হচ্ছে সিন্থেটিক প্রশান্তিদায়ক, যার ফলে অতিরিক্ত মাত্রায় সেবনকারীদের বাঁচানো আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
মাইক সতর্ক করে বলেন, ‘তুমি বেশি টেনে ফেলতে পারো, আর তা আর ফেরানো যায় না। যেন গুলি ছোড়ার মতো — গুলি একবার বেরিয়ে গেলে আর ডেকে ফেরানো যায় না।’
এই সংকট মোকাবিলায় বড় ভূমিকা রাখছে ন্যালোক্সোন (ব্র্যান্ড নাম নারকান) — একটি নাকের স্প্রে, যা ওপিওয়েডের অতিরিক্ত মাত্রার প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে উল্টে দেয়। এর ব্যাপক ব্যবহার যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী ওভারডোজের সংখ্যা বদলে দিয়েছে।
২০২২ সালে শীর্ষে থাকা অবস্থায় বছরে ১ লাখ ১০ হাজার আমেরিকান ওভারডোজে মারা যেতেন, যার বেশিরভাগই ওপিওয়েডের কারণে। এরপর থেকে সংখ্যাটি কমতে শুরু করেছে — গত বছর তা ছিল প্রায় ৭০ হাজার। তবে এর মানে এই নয় যে ওপিওয়েড সংকট শেষ হয়ে গেছে।
সিন্থেটিক ওপিওয়েড আগের চেয়ে বেশি শক্তিশালী এবং সরবরাহও প্রচুর; এতে বদলে গেছে পুরো মাদকের চিত্র। ব্যবহারকারী, বিক্রেতা, কারাগার ও পুনর্বাসন কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে, লড়াইটা এখন আরও জটিল — কারণ শত্রু আর বিদেশ থেকে আসা চালান নয়, ঘরের ভেতরেই তৈরি হওয়া রাসায়নিক।
মাইক স্থানীয় একটি প্যান শপ ও গ্যাস স্টেশনে সাহায্য করে দিন চালান। এলাকার সবাই তাঁকে চেনে, স্নেহও করে। তাঁর মতো লাখ লাখ মানুষের জীবনই বলে দেয়, সংখ্যা কমলেও সংকটের গভীরতা এখনও ভয়ংকর।
