গ্রিন বেতে কঠিন পরীক্ষায় কাউবয়েজ, রান ঠেকানোই বড় দুশ্চিন্তা ডালাসের
ন্যাশনাল ফুটবল লিগে রোববার গ্রিন বে প্যাকার্সের মাঠে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়ছে ডালাস কাউবয়েজ। মৌসুমের প্রথম পাঁচ ম্যাচে তাদের ফল এক অদ্ভুত ছন্দে বাঁধা—হার, জয়, হার, জয়, তারপর আবার হার। জয়-পরাজয়ের এই দোলাচলে আটকে থাকলেও এনএফসি ইস্টে এখনো কোনো দলেরই তিনটির বেশি জয় নেই, আর ফেভারিট হিসেবে ধরা ফিলাডেলফিয়া ঈগলসও শুরুর মৌসুমে হোঁচট খাচ্ছে।
হিসাব বলছে, এবার হয়তো নয়টি জয়ই ডিভিশন শিরোপার জন্য যথেষ্ট হতে পারে। তবে তার জন্য কাউবয়েজকে এখন থেকেই টানা জয়ের ধারায় ফিরতে হবে। গ্রিন বের মাঠে সেই কাজটি সহজ হবে না।
ইনজুরিতে জর্জরিত থাকলেও প্যাকার্স গত সপ্তাহে শিকাগো বিয়ার্সকে ৩১-৭ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে নিজেদের ফিরে পাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। বিয়ার্সকে বদলি কোয়ার্টারব্যাক টাইসন ব্যাজেন্ট ও কেস কিনামকে খেলাতে হয়েছে, তাতে তাদের পয়েন্ট কম হওয়ার ব্যাখ্যা মিললেও প্যাকার্সের আক্রমণভাগের ঝলক ছিল চোখে পড়ার মতো।
এবার সেই আক্রমণের মুখোমুখি হবে ডালাসের রক্ষণভাগ, যারা দশ দিন আগে এক নবাগত কোয়ার্টারব্যাকের দলের কাছে হেরেছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিপক্ষকেই ২০ পয়েন্টের নিচে আটকে রাখতে পারেনি। ফলে রোববারের ম্যাচে কাউবয়েজ আদৌ লড়াই করতে পারবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
ডালাসের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা রান ঠেকানোয়। প্রতি ম্যাচে গড়ে ১৬৮ রাশিং ইয়ার্ড হজম করছে তারা, যা লিগে সবচেয়ে খারাপ। এই ঘাটতি চলতে থাকলে দুর্বল হয়ে পড়া ইস্ট ডিভিশনেও টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে তাদের জন্য।
গভীর পাসের বল ঠেকাতেও ভুগছে কাউবয়েজের রক্ষণ। প্যাকার্সের আক্রমণ ঠিক এই জায়গাতেই এখন সবচেয়ে ধারালো। গত সপ্তাহে বিয়ার্সের বিপক্ষে জর্ডান লাভের কাছ থেকে ক্রিস্টিয়ান ওয়াটসন ও ম্যাথিউ গোল্ডেন দুজনই ৫০ গজের রিসেপশন নিয়েছেন, দুজনে মিলে করেছেন ২৬৬ গজ। নতুন আসা কর্নারব্যাক জোয়ি পোর্টার জুনিয়রসহ ডালাসের সেকেন্ডারির সামনে তাই বড় পরীক্ষা অপেক্ষা করছে।
তবে প্যাকার্সের রক্ষণেও সমস্যা কম নয়। তারকা এজ রাশার মাইকা পার্সনসের ফেরার অপেক্ষা এখনো শেষ হয়নি—পার্সনস একসময় কাউবয়েজেই খেলতেন। তার ওপর সামনের সারির এডগেরিন কুপার ও জ্যাভন হারগ্রেভের অনুপস্থিতি ড্যাক প্রেসকটকে বাড়তি সময় দিতে পারে।
প্রেসকট সময় পেলে তার দুই তারকা ওয়াইড রিসিভার সিডি ল্যাম্ব ও জর্জ পিকেন্সের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলা তার জন্য সহজ হবে। লিগের অন্যতম সেরা রিসিভার জুটির বিপক্ষে প্যাকার্সের রক্ষণকে তাই সতর্ক থাকতে হবে পুরো ম্যাচজুড়ে।
দুই দলের এই আক্রমণাত্মক শক্তির কারণেই অনেকে মনে করছেন, সপ্তাহের সবচেয়ে বেশি পয়েন্টের ম্যাচ হতে পারে এটিই। দুই দল মিলিয়ে পয়েন্টের সংখ্যা পঞ্চাশের ঘর ছাড়িয়ে যেতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাচটি দেখা যাবে এনবিসিতে এবং ফুবোতে স্ট্রিম করা যাবে। কানাডায় টিএসএন বা সিটিভিতে এবং যুক্তরাজ্যে স্কাই স্পোর্টস এনএফএল ও স্কাই স্পোর্টস মেইন ইভেন্টে ম্যাচটি সম্প্রচারিত হবে।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন একটাই—গ্রিন বের মাঠে কাউবয়েজ কি নিজেদের রক্ষণের দুর্বলতা কাটিয়ে লড়াইয়ে ফিরতে পারবে, নাকি প্যাকার্সের ধারালো আক্রমণের সামনে আবারও ভেঙে পড়বে ডালাসের জয়-পরাজয়ের সেই পুরোনো ছন্দ?





