তিন শতাধিক হোটেল, নেই ফায়ার স্টেশন: অগ্নিকাণ্ডের বড় ঝুঁকিতে কুয়াকাটা
পটুয়াখালীর সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটায় অগ্নিকাণ্ডে বড় ধরনের ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সেখানে অনেক হোটেল, মোটেল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রই নেই; আবার যেসব প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা আছে, সেগুলোর অনেক সরঞ্জামের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এর ওপর কুয়াকাটায় এখন পর্যন্ত কোনো ফায়ার সার্ভিস স্টেশনই স্থাপন করা হয়নি।
কুয়াকাটা পৌর শহরে তিন শতাধিক হোটেল-মোটেল গড়ে উঠলেও অধিকাংশটিতেই অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই বলে জানা গেছে। কুয়াকাটায় ঠিক কতটি হোটেল-মোটেলে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র আছে আর কতটির নেই, তার সঠিক তথ্য ফায়ার সার্ভিসের কাছেও নেই।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা দূরত্ব। কুয়াকাটা থেকে সবচেয়ে কাছের ফায়ার সার্ভিস স্টেশনটি ২২ কিলোমিটার দূরে কলাপাড়া শহরে। জরুরি প্রয়োজনে এত দূর থেকে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি এসে পৌঁছাতে পৌঁছাতে আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেড়ে যাবে বলেই আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, তিন শতাধিক হোটেল-মোটেলের মধ্যে প্রথম শ্রেণির বেশির ভাগ হোটেলে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র রয়েছে। সংগঠনটি আগামী ২৩ ও ২৪ অক্টোবর কুয়াকাটায় অনুষ্ঠেয় পর্যটন কার্নিভাল সামনে রেখে সব প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র স্থাপন ও সচল রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আউয়াল মিয়া বলেন, ১৯৯৮ সালে কুয়াকাটাকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়। দীর্ঘ ২৭ বছরে কুয়াকাটায় তিন শতাধিক হোটেল গড়ে উঠেছে, নির্মাণ করা হয়েছে পাঁচ শতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। কিন্তু আজও কুয়াকাটায় একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ করা হয়নি। তাঁর ভাষায়, ফায়ার সার্ভিসের অভাবে এর আগে অগ্নিকাণ্ডে কুয়াকাটার অনেক প্রতিষ্ঠান পুড়ে গেছে, আর অধিকাংশ হোটেলে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রও নেই।
ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার সদস্য জহিরুল ইসলাম মিরন বলেন, কক্সবাজারের উখিয়ায় ইনানীর পাটোয়ারটেক সৈকতের রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর তাঁরা শঙ্কিত। কুয়াকাটায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নেই, অধিকাংশ হোটেলে অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা নেই — আগুন লাগলে মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু পুড়ে যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, কক্সবাজারের মতো কুয়াকাটায় কোনো রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড ঘটলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থেকে যায়। তাই সব হোটেল ও মোটেলে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র নিশ্চিত করার পাশাপাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের দাবি জানান তিনি।
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোতালেব সরি বলেন, প্রথম শ্রেণির অধিকাংশ হোটেলে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রয়েছে। নতুন যেসব হোটেল নির্মাণ করা হচ্ছে, সেগুলোতে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র রাখার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “আগামী ২৩ ও ২৪ অক্টোবর পর্যটন কার্নিভাল ঘিরে সব হোটেল ও মোটেলে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা সচল রাখতে বলা হয়েছে। আমরা বারবার হোটেল মালিকদের অবহিত করেছি। যারা এখনো হোটেলে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র স্থাপন করেনি, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।”
ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকেও একই ধরনের হুঁশিয়ারি এসেছে। পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালকের দপ্তরের ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর ছাব্বির আহমেদ বলেন, কুয়াকাটায় ঠিক কতটি হোটেলে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রয়েছে, এর সঠিক তথ্য তাঁদের কাছে নেই। তবে তাঁরা নতুন ডিজিটাল তালিকা তৈরি করবেন এবং লাইসেন্সগুলো ডিজিটাল করা হবে।
তিনি জানান, এর আগে যাদের ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স নেওয়ার জন্য তাগিদ দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে যারা এখনো লাইসেন্স নেননি এবং হোটেলে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র স্থাপন করেননি, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পর্যটন কার্নিভালকে সামনে রেখে কুয়াকাটায় পর্যটকের ভিড় বাড়ার সময়েই এই সতর্কতা এল। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ট্যুর অপারেটরদের দাবি একটাই — প্রতিটি হোটেল-মোটেলে কার্যকর অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং কুয়াকাটায় একটি নিজস্ব ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন করা। তা না হলে যেকোনো অগ্নিকাণ্ড বড় বিপর্যয়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।




