ককপিটে কুড়ালের আঘাত ঠেকিয়ে যাত্রীদের বাঁচালেন ফ্লাইদুবাইয়ের ক্যাপ্টেন, হাসপাতাল থেকে বললেন সেই মুহূর্তের কথা
সহ-পাইলটের কুড়ালের আঘাত নিজের মাথায় ঠেকিয়ে, সাহায্যের জন্য চিৎকার করে ককপিটের দরজা খোলার চেষ্টা করার সেই ভয়ংকর মুহূর্তের বর্ণনা দিয়েছেন ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটের ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। সহ-পাইলট বিমানটি বিধ্বস্ত করতে চেয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত মাসে দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইটে বড় বিপর্যয় এড়াতে ভূমিকা রাখায় মাচ্ছারকে ‘নায়ক’ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেলের ভাষ্য অনুযায়ী, সহ-পাইলট বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে বিমানটি বিধ্বস্ত করার একটি আত্মঘাতী হামলার চেষ্টা করেছিলেন।
আবুধাবির একটি হাসপাতালের শয্যা থেকে দ্য ন্যাশনাল পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাচ্ছারের মাথায় ও বাঁ হাতে ব্যান্ডেজ দেখা গেছে। তিনি বলেন, প্রথম আঘাতটি লাগার সময় তাঁর মনে হয়েছিল, বিমানের কাঠামোয় ‘ভয়ংকর কিছু একটা গোলমাল’ হয়েছে। কিন্তু খুব দ্রুতই তিনি বুঝতে পারেন, তাঁর ওপর হামলা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি ‘নাটকীয় মোড়’ নিয়েছে।
মাচ্ছার বলেন, ‘এরপরের চিন্তাটাই ছিল, আমার এখানে সাহায্য দরকার। আমার তাৎক্ষণিক কাজ ছিল সিটবেল্ট থেকে নিজেকে মুক্ত করা, আর আমি যতটা পারি আঘাতগুলো ঠেকানোর চেষ্টা করেছি।’ আত্মরক্ষার সময় আহত হওয়া নিজের হাতের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি এই বর্ণনা দেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আঘাতগুলো আসছিল মাথার দিকে। সঙ্গে সঙ্গে আমার হাত চলে যায় দরজা খোলার নবের দিকে, আর আমি সহকর্মীদের জন্য চিৎকার করছিলাম, তাঁর নাম ধরে চিৎকার করছিলাম। আমার ধারণা, সেটাই ছিল প্রথমবার যখন আমি জ্ঞান হারাই।’
ঘটনাটি ঘটে ফ্লাইট এফজেড১০৭৩ সৌদি আকাশসীমায় থাকাকালে। সহ-পাইলট মাচ্ছারকে আক্রমণ করেন একটি ক্র্যাশ অ্যাক্স বা জরুরি কুড়াল দিয়ে—যা সাধারণত জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য ককপিটে রাখা থাকে।
এই ঘটনায় বিমানটি মাত্র ৩০ সেকেন্ডে ১৬ হাজার ফুট (৪ হাজার ৯০০ মিটার) নিচে নেমে যায়। এরপর হামলাকারীকে কাবু করা হয় এবং বিমানে থাকা আরও দুজন পাইলট বিমানটিকে নিরাপদে সৌদি আরবে অবতরণ করান।
সন্দেহভাজন ব্যক্তি ওমানি নাগরিক। তাঁকে পরে ফ্লাইদুবাইয়ের নিজ দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে স্থানান্তর করা হয়। ঘটনার পর থেকে তিনি সেখানকার কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রয়েছেন বলে প্রসিকিউশনের তথ্যে জানা গেছে।
আরব আমিরাতের পাবলিক প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই পরিকল্পনাটি অনুপ্রাণিত হয়েছিল ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে চালানো হামলা থেকে। ১ অক্টোবর শুরু হওয়া ফৌজদারি তদন্তের ফল হিসেবে প্রসিকিউটররা এই তথ্য জানিয়েছেন।
মাচ্ছার বলেন, তিনি ককপিটের দরজা খোলার শব্দ এবং ‘আমার সহকর্মী ও ওই লোকটির’ মধ্যে চিৎকার-চেঁচামেচি শুনতে পেয়েছিলেন। তাঁর কাছে সবচেয়ে ভয়ের বিষয় ছিল বিমানের নাক ‘খাড়াভাবে নিচের দিকে নেমে যাওয়া’ অনুভব করা।
তিনি বলেন, ‘আমি খুব একটা নিশ্চিত ছিলাম না যে এখান থেকে জীবিত বের হতে পারব। আমি কি হাল ছেড়ে দিয়েছিলাম? না।’ সংকটের মুহূর্তেও হাল না ছাড়ার এই মনোভাবই শেষ পর্যন্ত অনেক যাত্রীর জীবন বাঁচাতে সাহায্য করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে মাচ্ছারের বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, কয়েক সেকেন্ডের সিদ্ধান্ত ও সহকর্মীদের দ্রুত হস্তক্ষেপই একটি নিশ্চিত বিপর্যয় ঠেকিয়ে দিয়েছে। তদন্ত চলমান থাকায় হামলার পেছনের পুরো চিত্র জানতে প্রসিকিউশনের পরবর্তী তথ্যের দিকে নজর থাকবে।



