রৌমারীতে পাশাপাশি কবরে শায়িত মা ও দুই সন্তান, শোকে স্তব্ধ পরিবার
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মা ও তাঁর দুই সন্তানকে পাশাপাশি তিনটি কবরে দাফন করা হয়েছে। রোববার উপজেলার চর শৌলমারী ইউনিয়নের চতলাকান্দা গ্রামের সামাজিক কবরস্থানে তাঁদের দাফন সম্পন্ন হয়।
নিহতরা হলেন প্রভাষক শহিদুল ইসলামের স্ত্রী লিপি বেগম (৩৬), তাঁদের ছেলে রিশাদ মিয়া (১২) ও মেয়ে তুবা (৭)। একসঙ্গে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হারিয়ে শহিদুল ইসলাম শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন বলে স্বজন ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
শনিবার দুপুরে ধানবোঝাই ট্রাকের ধাক্কায় একটি অটোরিকশার পাঁচ আরোহী নিহত হন। সেই পাঁচজনের মধ্যেই ছিলেন লিপি বেগম ও তাঁর দুই সন্তান। একই দুর্ঘটনায় নিহত হন আরও দুজন।
নিহত অন্য দুজন হলেন যাদুরচর ইউনিয়নের কর্তিমারী বাজার এলাকার বাদল মিয়ার স্ত্রী শরিফা বেগম (৪২) এবং রাজীবপুর উপজেলার মণ্ডলপাড়া গ্রামের নজরুল ইসলাম (৪২)। রোববার সকালে তাঁদেরও নিজ নিজ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, লিপি বেগম সন্তানদের নিয়ে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ডাংধরা ইউনিয়নের পান্তামারী গ্রামে বাবার বাড়িতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে নিজেদের বাড়িতে ফেরার পথেই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের সায়েদাবাদ বাজারের শিবেরডাঙ্গি এলাকায় অটোরিকশাটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। যাত্রাপথের এই অংশেই বিপরীত দিক থেকে আসা ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিপরীত দিক থেকে আসা ধানবোঝাই ট্রাকটি অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান আরও দুজন।
দুর্ঘটনায় বৃষ্টি খাতুন (২৫) নামে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জানাজায় অংশ নেওয়া স্থানীয় কলেজ শিক্ষক একরামুল হক বলেন, শহিদুল ইসলামের দুই সন্তান তাঁর সন্তানের সঙ্গে পড়াশোনা করত। রিশাদ এবার ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছিল। তাকে ক্যাডেট কলেজে ভর্তির জন্য কোচিং করানোর পরিকল্পনা ছিল পরিবারের। কিন্তু দুর্ঘটনায় সব শেষ হয়ে গেল বলে তিনি আক্ষেপ করেন।
একরামুল হক আরও বলেন, স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হারিয়ে শহিদুল ইসলাম বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। জানাজা ও দাফনকে ঘিরে এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়, অনেকেই পরিবারটির পাশে এসে দাঁড়ান।
সহকারী পুলিশ সুপার (রৌমারী সার্কেল) রাসেল কবির জানিয়েছেন, এ ঘটনায় ট্রাক ও অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
একটি পরিবারের তিনজনকে একসঙ্গে হারানোর এই ঘটনা পুরো এলাকায় গভীর শোক ছড়িয়েছে। পাশাপাশি তিনটি কবরে মা ও দুই সন্তানের দাফনের দৃশ্য স্বজনদের জন্য সবচেয়ে বেদনাদায়ক মুহূর্ত হয়ে থাকল। এখন পুলিশের আইনগত প্রক্রিয়া ও আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার দিকেই নজর থাকবে সবার।

