রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
সর্বশেষ হালনাগাদ: সকাল ১০:৪০
প্রচ্ছদ › কৃষি › খবর
কৃষি

মা ইলিশ রক্ষায় ভোলার নদীতে কঠোর টহল, নিষেধাজ্ঞা ভাঙলে আইনি ব্যবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক • রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ • দুপুর ২:৫৪ • পড়ার সময়: ৩ মিনিট

ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের দক্ষিণ জোন। সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীসহ উপকূলীয় এলাকায় নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে।

রবিবার দুপুরে ভোলার শিবপুরের ভোলার খাল এলাকার জেলে পল্লিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের স্টাফ অফিসার (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কমান্ডার জামিলুল রহমান। জেলেদের এলাকায় গিয়েই এই বার্তা দেওয়া হয়, যাতে নিষেধাজ্ঞার কারণ ও সময়সীমা সবার কাছে স্পষ্ট থাকে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন এবং নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে নদী ও সমুদ্র উপকূলে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে সার্বক্ষণিক টহল কার্যক্রম চলছে, যাতে নিষেধাজ্ঞার সময়ে কেউ নদীতে মাছ ধরতে না নামে।

শুধু অভিযান নয়, জেলেদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতেও কাজ করছে কোস্টগার্ড। মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও আলোচনা সভার মাধ্যমে সবাইকে আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে। সংরক্ষণের সুফল যে শেষ পর্যন্ত জেলেদেরই—সেই বার্তাটি পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে এসব কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে।

অভিযান পরিচালিত হচ্ছে সমন্বিতভাবে। জেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে মাঠে কাজ করছে কোস্টগার্ড। নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হয়।

লে. কমান্ডার জামিলুল রহমান বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, আজকের সংরক্ষণই আগামী দিনের প্রাচুর্য। মা ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনসহ যেকোনো অনিয়মের তথ্য জানাতে তিনি সর্বসাধারণকে কোস্টগার্ডের জরুরি সেবা নম্বর ১৬১১১-এ কল করার আহ্বান জানান।

প্রসঙ্গত, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশসহ সব ধরনের মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। এই সময়ে মা ইলিশ ডিম ছাড়ে, তাই নির্বিঘ্ন প্রজনন নিশ্চিত করাই নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য।

মৎস্য খাতের জন্য এই কয়েকটি সপ্তাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রজনন সফল হলে ইলিশের উৎপাদন বাড়ে, যার সরাসরি সুফল পান জেলেরা ও ভোক্তারা। অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞার সময়ে ধরা পড়লে সেই ক্ষতি পূরণ হতে দীর্ঘ সময় লাগে—এই যুক্তিতেই প্রশাসন মাঠে কঠোর অবস্থানের কথা বলছে।

সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে একসঙ্গে কাজ করছে। টহল ও নজরদারির পাশাপাশি জেলে পল্লিগুলোতে সচেতনতামূলক কার্যক্রমও চলমান রয়েছে, যাতে স্বেচ্ছায় আইন মানার প্রবণতা বাড়ে।

নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হবে ২৯ অক্টোবর। তার আগ পর্যন্ত নদীতে টহল ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে কোস্টগার্ড জানিয়েছে। মা ইলিশ রক্ষার এই অভিযান কতটা সফল হয়, তার প্রভাব দেখা যাবে আগামী মৌসুমের ইলিশ উৎপাদনে।